যে সংখ্যাগুলি বিমান শিল্পের মহামারী-পরবর্তী কাহিনি লিখে দিয়েছে
২০২০ সালে বৈশ্বিক বিমান শিল্প যখন "ইতিহাসের সবচেয়ে খারাপ বছর" ঘোষণা করেছিল — যাত্রী সংখ্যায় ৬০ শতাংশ এবং রাজস্বে ৭০ শতাংশ পতন — তখন খুব কম বিশ্লেষক ভবিষ্যদ্বাণী করতে পেরেছিলেন যে পুনরুদ্ধার কত দ্রুত হবে। ২০২৪-এ বৈশ্বিক যাত্রী সংখ্যা প্রায় ৯৫০ কোটিতে পৌঁছায় — ২০১৯ মাত্রার ১০৪ শতাংশ। IATA পূর্বাভাস দিয়েছে যে ২০২৫ সালে বার্ষিক বৈশ্বিক বিমান রাজস্ব প্রথমবারের মতো ১ ট্রিলিয়ন ডলারের সীমা ছাড়িয়ে যাবে। এশিয়া-প্যাসিফিক ২০২৪-এ ১৬.৯ শতাংশ রাজস্ব যাত্রী কিলোমিটার বৃদ্ধি নিয়ে আঞ্চলিক পুনরুদ্ধারে নেতৃত্ব দিয়েছে।
বাংলাদেশ এই পুনরুদ্ধারে প্রত্যাশার চেয়ে এগিয়ে ছিল। বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান কর্তৃপক্ষ ২০২৩ সালে দেশের বিমানবন্দরগুলিতে ১.৭৪ কোটি যাত্রী রেকর্ড করেছে — ২৩.৪ শতাংশ বার্ষিক প্রবৃদ্ধি — আন্তর্জাতিক যাত্রী একাই ২০২২ থেকে ৩০ শতাংশ এবং মহামারী-পূর্ব ২০১৯ ভিত্তিরেখার চেয়ে ৩৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৩ সালে ঢাকা বিমানবন্দর প্রতিদিন গড়ে ৩৭,০০০-৩৮,০০০ যাত্রী পরিচালনা করছিল — এবং টার্মিনাল ৩ চালু হওয়ার সাথে সাথে এই সংখ্যা আরও বাড়ছিল।
টার্মিনাল ৩ এবং আঞ্চলিক হাব মর্যাদায় অবকাঠামো বিনিয়োগ
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের টার্মিনাল ৩-এর আংশিক উদ্বোধন বাংলাদেশের বিমান ইতিহাসে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ একক বিনিয়োগ। মিৎসুবিশি কর্পোরেশন, ফুজিতা কর্পোরেশন ও স্যামসাং C&T দ্বারা নির্মিত এবং জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার ৭০ শতাংশ অর্থায়নে মোট ২১,৩০০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই টার্মিনাল বার্ষিক ১২ লাখ অতিরিক্ত যাত্রী ধারণক্ষমতা যোগ করে। পূর্ণ কার্যক্রম শুরু হলে HSIA-র মোট বার্ষিক ক্ষমতা প্রায় ২০-২৪ লাখ যাত্রীতে উন্নীত হবে।
টার্মিনালের কার্গো কমপ্লেক্স বিমানবন্দরের রপ্তানি কার্গো হ্যান্ডলিং ক্ষমতা তিনগুণ বাড়াতে ডিজাইন করা হয়েছে — ২ লাখ টন থেকে প্রায় ৫.৪৭ লাখ টনে — কৃষি ও ওষুধ রপ্তানির জন্য ত্রি-শ্রেণীর কোল্ড স্টোরেজ সহ। টার্মিনালটি মেট্রোরেল ও ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের সাথে সংযুক্ত, দীর্ঘদিনের সমালোচনার জবাব দিয়ে যে HSIA ঢাকার বৃহত্তর পরিবহন নেটওয়ার্কের সাথে খারাপভাবে সংযুক্ত ছিল। বাংলাদেশকে আঞ্চলিক বিমানচলাচল হাব হিসেবে অবস্থান দেওয়ার উচ্চাকাঙ্ক্ষা — পূর্ব ও পশ্চিমের মধ্যে ঢাকার ভৌগোলিক অবস্থানের সুবিধা নিয়ে — উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জাপান ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিরাও স্বীকার করেছিলেন।
বিমানের রেকর্ড বছর এবং বহর সংকট সমস্যা
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তার ৫৫ বছরের ইতিহাসে সর্বোচ্চ মুনাফা অর্জন করেছে: ৯৩৭ কোটি টাকা অনিরীক্ষিত মুনাফা, ১১,৬৩১ কোটি টাকা রাজস্ব সহ — পর পর দ্বিতীয় বছর ১০,০০০ কোটি টাকার উপরে। ক্যাবিন ফ্যাক্টর ৮২ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর ২০২৪-এ কার্গো বিক্রয় যথাক্রমে ১৪৬ ও ১০২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। সেপ্টেম্বর ২০২৪ থেকে জানুয়ারি ২০২৫ পর্যন্ত পাঁচ মাসে মোট টিকিট বিক্রয় ৩৬ শতাংশ বেড়ে ৪,০৫৭ কোটি টাকায় পৌঁছেছে।
তবে বিমানের এই গতিবেগকে থামিয়ে দেওয়া কাঠামোগত সমস্যাটি সহজ: বিমান। ২১টি বিমানের বর্তমান বহর নতুন লাভজনক আন্তর্জাতিক গন্তব্যে ফ্লাইট সম্প্রসারণের জন্য অপর্যাপ্ত। বিমান ২০৩৪ সালের মধ্যে বহর ২১ থেকে ৪৭ বিমানে (১২২ শতাংশ বৃদ্ধি) সম্প্রসারণের পরিকল্পনা অনুমোদন করেছে। ২০২৩ সালে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁর ঢাকা সফরের সময় অর্ডার করা এয়ারবাস A350 সহ কমপক্ষে ২৬টি নতুন বিমান ক্রয়ের মাধ্যমে এটি অর্জন করা হবে। বহর সম্প্রসারণ ছাড়া টার্মিনাল ৩-এর ক্ষমতার সুবিধা মূলত বিদেশি বাহকরাই ভোগ করবে।
৮০ শতাংশ সমস্যা: বিদেশি বাহকের আধিপত্য এবং এর মূল্য
বাংলাদেশের বিমান খাতের সবচেয়ে কাঠামোগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ তথ্যটি প্রবৃদ্ধির আখ্যানে খুব কমই প্রাধান্য পায়: বিদেশি বাহকরা বাংলাদেশি বিমানবন্দরে প্রায় ৮০ শতাংশ যাত্রী ও কার্গো পরিবহন নিয়ন্ত্রণ করে। স্থানীয় এয়ারলাইনগুলি — বিমান, ইউএস-বাংলা, নভোএয়ার সহ — একসাথে মাত্র ২০-২৫ শতাংশ বাজার ধরে। এই অনুপাত সময়ের সাথে মিশ্রিত হওয়া অর্থনৈতিক পরিণতি বহন করে। যখন একজন বাংলাদেশি প্রবাসী কর্মী রিয়াদে সৌদি এয়ারলাইন্সে বাড়ি আসার টিকিট বুক করেন, তখন রাজস্বের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ বাংলাদেশের বিমান খাত থেকে বেরিয়ে যায়।
বিদেশি বাহকের আধিপত্য শ্রম অভিবাসনের কাঠামোগত গতিশীলতা প্রতিফলিত করে: বাংলাদেশের বিমান বাজার মূলত সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, কুয়েত ও মালয়েশিয়ার রুটে মাইগ্রেন্ট কর্মীদের চাহিদা দ্বারা পরিচালিত — এমন রুট যেখানে গালফ বাহকরা স্কেল ও ফ্রিকোয়েন্সিতে আধিপত্য করে। ২৩টি বিমান নিয়ে এখন বাংলাদেশের বৃহত্তম এয়ারলাইন ইউএস-বাংলা এই সেগমেন্টে প্রতিযোগিতা করতে গালফ রুটে সম্প্রসারণ করছে।
আঞ্চলিক সংযোগ: শ্রম, প্রবাসী এবং উদীয়মান ব্যবসায়িক করিডোর
বাংলাদেশের মহামারী-পরবর্তী বিমান বৃদ্ধি তিনটি স্বতন্ত্র যাত্রী বিভাগের মাধ্যমে বোঝা যায়। প্রথম ও সবচেয়ে বড়টি হলো অভিবাসী শ্রম: রেকর্ড শ্রম রপ্তানি যা রেমিট্যান্সকে ৩০,০০০ কোটি ডলারে নিয়ে গেছে তাও যাত্রী পরিমাণ বাড়িয়েছে। দ্বিতীয়টি শিক্ষামূলক অভিবাসন ও প্রবাসী ভ্রমণ — যুক্তরাজ্য, ইতালি, কানাডা ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে কেন্দ্রীভূত বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্য প্রবাসী সম্প্রদায় পরিবার ও ধর্মীয় উৎসবে নিয়মিত ভ্রমণ করে। তৃতীয়টি — চিকিৎসা পর্যটন, অবকাশ ভ্রমণ, ও ইনবাউন্ড ব্যবসায়িক ভ্রমণ — ছোট তবে ক্রমবর্ধমান।
IATA-র পূর্বাভাস যে বৈশ্বিক যাত্রী সংখ্যা ২০৩০-এ ১,২০০ কোটি এবং ২০৪২-এ ১,৯৫০ কোটিতে পৌঁছাবে — এশিয়া-প্যাসিফিকের উদীয়মান বাজার বৃদ্ধি দ্বারা অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে চালিত — দীর্ঘমেয়াদী চাহিদার পরিবেশ তৈরি করে যা কাঠামোগতভাবে বাংলাদেশের উচ্চাকাঙ্ক্ষার অনুকূল। কিন্তু ভৌগোলিক সুবিধা তখনই হাব মর্যাদায় রূপান্তরিত হয় যখন স্লট প্রাপ্যতা, প্রতিযোগিতামূলক সংযোগ সময়, পর্যাপ্ত গেট ক্ষমতা, এবং ইমিগ্রেশন সুবিধার সাথে মিলিত হয়। বাংলাদেশ সেই বৃদ্ধি ধরবে কিনা — নাকি প্রাথমিকভাবে পয়েন্ট-টু-পয়েন্ট বাজার হিসেবে থাকবে যেখানে বিদেশি বাহকরা বেশিরভাগ মূল্য আহরণ করে — তা আগামী পাঁচ বছরে বহর সম্প্রসারণ, বিমানবন্দর পরিচালনা এবং নীতি পরিবেশ দ্বারা নির্ধারিত হবে।
win-tk.org একটি wintk প্রকাশনা যা বাংলাদেশি ও দক্ষিণ এশিয়ার পাঠকদের জন্য বৈশ্বিক বিষয় ও সংস্কৃতি নিয়ে কাজ করে।