শ্রমিক থামলে অর্থনীতি রক্ত ঝরায়
বাংলাদেশে প্রতি কয়েক বছর পর পর একটা ঘটনা ঘটে যেটা অর্থনীতিবিদরা বোঝেন কিন্তু নীতিনির্ধারকরা কখনো সত্যিকার অর্থে সমাধান করেননি। কোনো একটা সেক্টর একটা সীমায় পৌঁছায় — মজুরি থেমে থাকে, নিরাপত্তা লঙ্ঘন জমতে থাকে, অভিযোগগুলো শোনার কেউ নেই — তারপর শ্রমিকরা থামে। ট্রাক চলে না। জাহাজে মাল ওঠে না। কারখানা নিরব হয়ে যায়। আর কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ক্ষতি এমনভাবে জমতে শুরু করে যেটা সামলাতে মাসের পর মাস লাগে।
ফ্রান্সের SNCF রেলওয়ে ধর্মঘট ইউরোপীয় পরিবহন ব্যবস্থাকে অচল করে দিয়েছিল, জাতীয় রেল অপারেটরের ৭০০ মিলিয়ন ইউরোর বেশি অর্থনৈতিক ক্ষতি হয়েছিল — আর সেই অভিজ্ঞতা পৃথিবীকে যা শিখিয়েছে, বাংলাদেশ সেটাই নিজের শিল্প ইতিহাসের কঠিন পথে শিখছে। পরিবহন ও লজিস্টিক অবকাঠামোয় শ্রমবিরোধ কখনো একটা জায়গায় আটকে থাকে না। এটা ছড়িয়ে পড়ে — প্রতিটি সেক্টরে যেটা পণ্য চলাচলের উপর নির্ভর করে। আর আধুনিক অর্থনীতিতে সেটা মানে প্রায় প্রতিটি সেক্টর।
বাংলাদেশের পরিবহন খাত: ভঙ্গুর শ্রম চুক্তির উপর দাঁড়ানো একটা ব্যবস্থা
বাংলাদেশের পরিবহন ও লজিস্টিক নেটওয়ার্ক হলো এই দেশের রপ্তানি অর্থনীতির রক্ত সঞ্চালন ব্যবস্থা। তৈরি পোশাক খাত — বার্ষিক ৪৭ বিলিয়ন ডলার অবদান, মোট রপ্তানি আয়ের ৮২ শতাংশ — পুরোপুরি নির্ভর করে কারখানা থেকে চট্টগ্রাম বন্দর পর্যন্ত পণ্য পৌঁছানোর উপর। সেই সাপ্লাই চেইন একটুও ভাঙলে ক্ষতি মুহূর্তের মধ্যে শুরু হয়, মাপযোগ্যভাবে।
বাংলাদেশের পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে শ্রম অভিযোগগুলোর স্তরে স্তরে জমে থাকা প্রকৃতি। SNCF বিরোধ মূলত একটা ভারী ইউনিয়নযুক্ত সরকারি খাতে পেনশন সংস্কার নিয়ে ছিল। বাংলাদেশের পরিবহন ধর্মঘটগুলো আরও জটিল মিশ্রণ থেকে জন্ম নেয় — বকেয়া মজুরি, আনুষ্ঠানিক নিয়োগপত্র না থাকা, গাড়ির বয়স নিয়ে বিরোধ, পেনশনের অপ্রতুলতা, আর বছরের পর বছর ধরে কাঠামোগত সমাধান না হওয়া শ্রমিক নিরাপত্তার প্রশ্ন।
২০২৫ সালের আগস্টে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি আট দফা দাবিতে ৭২ ঘণ্টার জাতীয় ধর্মঘট ঘোষণা করে — যার মধ্যে ছিল বাণিজ্যিক যানবাহনের অর্থনৈতিক আয়ুষ্কাল ৩০ বছরে বাড়ানো। এর আগে মেঘনা নদীতে MV আল-বাখেরা জাহাজে সাত ক্রু সদস্যকে হত্যার প্রতিবাদে বাংলাদেশ নৌপরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট ডাকে। ফলাফল: কুতুবদিয়ার বাইরের নোঙরস্থলে ২০টি মাদার ভেসেলের লোডিং-আনলোডিং বন্ধ, ঘাটে ও ল্যান্ডিং স্টেশনে টন টন পণ্য আটকে, আর দেশীয় বাজারে পণ্যের দাম ওঠানামা শুরু।
চট্টগ্রাম বন্দরের অঙ্ক
পরিবহন ধর্মঘট বাংলাদেশে কেন বড় অর্থনীতির তুলনায় বেশি আঘাত করে — সেটা বুঝতে হলে চট্টগ্রাম বন্দরে ঝুঁকির কেন্দ্রীভূত হওয়াটা বুঝতে হবে। প্রতিদিন প্রায় ২,০০০ রপ্তানি TEU (টুয়েন্টি-ফুট ইকুইভ্যালেন্ট ইউনিট) দেশের বিভিন্ন আইসিডি থেকে বন্দরে যায়, আর প্রায় ৮০০ TEU আমদানি পণ্য উল্টোপথে আসে। ট্রাক ধর্মঘটে এই প্রবাহ বন্ধ হলে ক্ষতি কাগজে-কলমে নয়, তাৎক্ষণিক ও নথিভুক্ত।
২০২৪ সালের চট্টগ্রামে ট্রাক ধর্মঘটের সময় শ্রীলঙ্কাগামী জাহাজ HR আরাই-এর ৯৫৬ TEU পণ্য নেওয়ার কথা ছিল। আইসিডি থেকে কন্টেইনার আনতে না পারায় জাহাজ মাত্র ৩৮৫ TEU নিয়ে রওনা দেয়। জাহাজটি বন্দরে অপেক্ষায় থেকে প্রতিদিন প্রায় চার হাজার ডলার বন্দর কর্তৃপক্ষকে ফি দেয় — যে খরচ শেষ পর্যন্ত সাপ্লাই চেইনের সবার উপর চাপে। কয়েকদিনের ধর্মঘটে এই হিসাব কোটি টাকায় পৌঁছায় বিরোধ মীমাংসার আগেই।
এটাই SNCF সংকট বড় পরিসরে দেখিয়েছে: নেটওয়ার্কযুক্ত অবকাঠামো ব্যবস্থায় ধর্মঘটের খরচ শুধু ধর্মঘটী শ্রমিকের হারানো মজুরি বা অপারেটরের হারানো রাজস্ব নয়। এটা হলো প্রতিটি সংযুক্ত ব্যবস্থার ক্ষতি যেটা একটা গুরুত্বপূর্ণ নোড থেমে যাওয়ায় কাজ করতে পারেনি।
পোশাক খাতের বিশেষ ভঙ্গুরতা
২০২৪ সালের জুলাই থেকে সেপ্টেম্বরের রাজনৈতিক অস্থিরতা এই ভঙ্গুরতা অসাধারণ স্পষ্টতায় দেখিয়ে দিয়েছে। শেখ হাসিনার সরকারের পতনের দিকে নিয়ে যাওয়া গণবিক্ষোভ — জাতীয় কারফিউ, ইন্টারনেট বন্ধ, বিদ্যুৎ সংকট মিলিয়ে — অর্থনীতিতে ১২০ কোটি ডলারের বেশি ক্ষতি করেছে। RMG খাত এই ক্ষতির অসামঞ্জস্যপূর্ণ ভাগ বহন করেছে কারণ জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর হলো ক্রিসমাস শিপমেন্ট আর পরের বছরের বসন্ত-গ্রীষ্মের অর্ডারের পিক সিজন।
এই সময়ে কারখানা বন্ধ থাকলে ক্রেতারা অপেক্ষা করে না। অর্ডার ভিয়েতনামে, কম্বোডিয়ায়, ভারতে চলে যায়। কিছু অর্ডার ফিরে আসে। অনেকটাই আসে না। তাই স্বল্পমেয়াদি শ্রম অস্থিরতার দীর্ঘমেয়াদি খরচ তাৎক্ষণিক উৎপাদন ক্ষতির চেয়ে অনেক বেশি — এতে যোগ হয় সেই বাজার অংশ যেটা বিরোধের সময় প্রতিযোগীদের কাছে চলে গেছে এবং কখনো পুরোপুরি ফেরেনি।
আগস্ট ২০২৪ থেকে জুলাই ২০২৫-এর মধ্যে প্রায় ২৪৫টি কারখানা বন্ধ হয়েছে, প্রায় এক লাখ শ্রমিক কাজ হারিয়েছেন। নাসা গ্রুপ, বেক্সিমকো গ্রুপের মতো বড় শিল্পগোষ্ঠী হাজার হাজার শ্রমিক ছাঁটাই করেছে। এই কারখানা বন্ধ আবার নতুন শ্রম অভিযোগ তৈরি করে — বকেয়া মজুরি, অপরিশোধিত সুবিধা, সহায়তাহীন শ্রমিক — যেটা পরবর্তী বিক্ষোভের বীজ বুনে দেয়।
NBR ধর্মঘট: সরকারি সংস্কার যখন অর্থনীতি অচল করে
প্রাতিষ্ঠানিক শ্রমবিরোধ কীভাবে ব্যাপক অর্থনৈতিক ক্ষতিতে রূপ নেয় — তার সাম্প্রতিক সবচেয়ে শিক্ষণীয় উদাহরণ ২০২৫ সালের জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের ধর্মঘট। মে ২০২৫-এ অন্তর্বর্তী সরকার NBR বিলুপ্ত করে নতুন রাজস্ব নীতি বিভাগ ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা বিভাগ তৈরির অধ্যাদেশ জারি করে। কর কর্মকর্তারা NBR সংস্কার ঐক্য পরিষদের ব্যানারে কর্মবিরতি শুরু করেন, যা মে মাসের শেষে পূর্ণ ধর্মঘটে পরিণত হয়।
অর্থনৈতিক পরিণতি ছিল দ্রুত ও গভীর। সারাদেশে কাস্টমস ক্লিয়ারেন্স ও কর সেবা সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম স্তব্ধ। শীর্ষ রপ্তানিকারক ও শিল্প সংগঠনগুলো জরুরি সমাধানের আহ্বান জানায়। যে মুহূর্তে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ চাপে আর সরকার IMF সংস্কার শর্ত পূরণ করছে, সে মুহূর্তে রাজস্ব আহরণে ঘাটতি পুরো অর্থনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও নাজুক করে তোলে।
NBR ধর্মঘট একটা বিষয় স্পষ্ট করে দিয়েছে যেটা পরিবহন ধর্মঘট সবসময় দেখায় না: বাণিজ্য প্রক্রিয়াকরণের কাগজপত্র যারা সামলান সেই শ্রমিকরা থামলে বন্দর ও ডিপোর ভৌত অবকাঠামো অর্থহীন হয়ে পড়ে। ট্রাক চলতে পারে, জাহাজ ভিড়তে পারে, কন্টেইনার সরানো যায় — কিন্তু কাস্টমস ক্লিয়ারেন্স বন্ধ থাকলে কিছুই কাজে লাগে না। বাণিজ্যনির্ভর অর্থনীতিতে প্রশাসনিক শ্রম ধর্মঘট কখনো কখনো শারীরিক পরিবহন ধর্মঘটের চেয়েও ক্ষতিকর।
রেলওয়ে ধর্মঘট এবং পেনশনের সমস্যা
২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রায়ত্ত রেলওয়ে সিস্টেম থমকে যায় যখন রেলওয়ে শ্রমিকরা পেনশন ও সুবিধার দাবিতে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট শুরু করেন। প্রায় ২৫,০০০ কর্মী নিয়ে ৩৬,০০০ কিলোমিটারের বেশি নেটওয়ার্কে যাত্রীবাহী ও পণ্যবাহী উভয় সেবায় বিঘ্ন ঘটে। যাত্রীরা আটকে পড়েন, মালবাহী পরিষেবা ব্যাহত হয়।
ধর্মঘটের পেনশন দিকটা বাংলাদেশের সরকারি খাতের শ্রম পরিস্থিতির একটা কাঠামোগত সমস্যার দিকে আঙুল তোলে। যখন সরকার পেনশন অধিকার স্পর্শ করে এমন প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার করতে যায়, তখন শ্রমিকদের প্রতিরোধ শুধু আড়ষ্টতা নয়। এটা অবসর নিরাপত্তা নিয়ে বাস্তব, যুক্তিসংগত ভয়ের প্রকাশ।
বাংলাদেশের শ্রমবাজারের তথ্য এই ভয়কে আরও বাস্তব করে তোলে। দেশের কর্মসংস্থান অনানুষ্ঠানিকতার হার প্রায় ৮৫ শতাংশ — মানে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠ শ্রমিক আনুষ্ঠানিক চুক্তি, সুবিধা সুরক্ষা ও পেনশনের অধিকার ছাড়াই কাজ করেন। যে রেলওয়ে কর্মীরা বা NBR কর্মকর্তারা আনুষ্ঠানিক চাকরির মর্যাদায় আছেন, তাদের কাছে এই সুরক্ষা কমানোর সংস্কার বিমূর্ত নীতি বিতর্ক নয় — এটা তাদের অবসর জীবনের আর্থিক নিরাপত্তায় সরাসরি আঘাত।
ফ্রান্সের SNCF অভিজ্ঞতা বাংলাদেশকে কী শেখায়
SNCF ধর্মঘট যেটা ফ্রান্সের জাতীয় রেলওয়ের ৭০০ মিলিয়ন ইউরোর বেশি ক্ষতি করেছিল — সেটা শেষ পর্যন্ত একটা আলোচিত কাঠামোর মাধ্যমে মীমাংসিত হয়েছিল। সংস্কারকৃত পেনশন কাঠামো বজায় রেখে, ইতিমধ্যে কর্মরত শ্রমিকদের জন্য ক্রান্তিকালীন সুরক্ষা দেওয়া হয়েছিল। সমাধান দ্রুত আসেনি, পরিষ্কারভাবেও আসেনি — কিন্তু ফরাসি অভিজ্ঞতা দেখিয়েছে যে গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোয় শ্রমবিরোধ কাঠামোগত আলোচনার মাধ্যমে সমাধানযোগ্য।
বাংলাদেশের চ্যালেঞ্জ হলো বিরোধ অর্থনৈতিক সংকটে পৌঁছানোর আগেই এই আলোচনার প্রাতিষ্ঠানিক অবকাঠামো গড়ে তোলা। এর জন্য কয়েকটি জিনিস বদলাতে হবে। প্রথমত, যৌথ দরকষাকষি পরিচালনার আইনি কাঠামো শক্তিশালী করতে হবে — বাংলাদেশ বর্তমানে আন্তর্জাতিক শ্রম মূল্যায়নে ট্রেড ইউনিয়ন অধিকার লঙ্ঘনে ৫ এর মধ্যে ৫ পায়, যেটা বলছে শ্রমিক সংগঠন তত্ত্বে বৈধ কিন্তু বাস্তবে সীমাবদ্ধ। দ্বিতীয়ত, সরকার, মালিক ও শ্রমিকদের মধ্যে ত্রিপক্ষীয় সংলাপের ব্যবস্থা মজুরি বিরোধে ডিফল্ট প্রক্রিয়া হওয়া দরকার — ধর্মঘট শুরু হওয়ার পর জরুরি অবলম্বন হিসেবে নয়।
প্রতিরোধ যখন অর্থনৈতিক নীতি
রপ্তানিনির্ভর অর্থনীতিতে শ্রম অস্থিরতা নিয়ে যারা গবেষণা করেন তারা ধারাবাহিকভাবে একটা সিদ্ধান্তে আসেন: সক্রিয় মজুরি সমন্বয়, নিরাপত্তায় বিনিয়োগ ও কার্যকর অভিযোগ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ধর্মঘট প্রতিরোধের খরচ, ধর্মঘট শুরু হওয়ার পর সামলানোর খরচের চেয়ে কম।
হিসাবটা জটিল নয়: একটি পোশাক কারখানা যেটা ধর্মঘটে তিন দিন উৎপাদন হারায়, সাথে ক্রেতাদের কাছে সুনামের ক্ষতি, সাথে ধর্মঘট-পরবর্তী বিরোধ নিষ্পত্তির আইনি খরচ — এই সবকিছু মিলিয়ে যে পরিমাণ হয়, সেটা সাধারণত ওই মজুরি বৃদ্ধির চেয়ে বেশি যেটার দাবিতে বিরোধটা শুরু হয়েছিল।
বাংলাদেশের পরিবহন খাতের জন্য সাম্প্রতিক বিরোধের ধরন থেকে কয়েকটি জরুরি অগ্রাধিকার উঠে আসে। ট্রাক চালক ও পরিবহন শ্রমিকদের আনুষ্ঠানিক নিয়োগপত্র — আগস্ট ২০২৫-এর সড়ক পরিবহন ধর্মঘটের মূল দাবিগুলোর একটি — আইনি কাঠামো তৈরি করবে যেটা বাধ্যকারী মজুরি চুক্তির সুযোগ দেয়। নির্ধারিত কর্মঘণ্টা ও ন্যূনতম মজুরি কার্যকর করলে সেই অন্তর্নিহিত পরিস্থিতি বদলাবে যেটা শ্রমিকদের আয় ক্ষতি মেনে নিয়েও ধর্মঘটে নামতে বাধ্য করে।
বন্দর পর্যায়ে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ ও বাংলাদেশ নৌপরিবহন সমন্বয় কোষের শ্রমবিরোধের সময় অপরিহার্য কার্গো প্রবাহ বজায় রাখার আকস্মিক পরিকল্পনা দরকার — ধর্মঘট ভাঙার হাতিয়ার হিসেবে নয়, বরং এমন ব্যবস্থা হিসেবে যা গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক কার্যক্রম চলতে দেয় যখন বিরোধ সঠিক আলোচনার মাধ্যমে সমাধান হচ্ছে।
বাংলাদেশের অর্থনীতি একটা গুরুত্বপূর্ণ বাঁকে দাঁড়িয়ে। সেপ্টেম্বর ২০২৫-এ সাধারণ মূল্যস্ফীতি ১০.৮৭ শতাংশে পৌঁছেছে। টাকা ২০২১ সাল থেকে ডলারের বিপরীতে ৪৩ শতাংশ মূল্য হারিয়েছে। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ চাপে। কারখানা বন্ধ হয়ে ইতিমধ্যে এক লাখ শ্রমিক আনুষ্ঠানিক কর্মসংস্থান হারিয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে দীর্ঘস্থায়ী পরিবহন ধর্মঘট বা একসাথে একাধিক খাতে শ্রমবিরোধ অর্থনৈতিক চাপকে সত্যিকারের সংকটে পরিণত করতে পারে।
SNCF-এর শিক্ষা, বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে অনুবাদ করলে সরল: সত্যিকারের সংস্কারের মাধ্যমে শ্রম শান্তির খরচ পরিমাপযোগ্য ও সামলানো যোগ্য। ভঙ্গুর অর্থনৈতিক মুহূর্তে শ্রম সংঘাতের খরচ — কোনোটাই নয়।
win-tk.org হলো wintk-এর একটি প্রকাশনা — যাচাইকৃত তথ্য ও বিশ্লেষণী সাংবাদিকতায় বাংলাদেশের অর্থনীতি, শ্রম ও উন্নয়ন কভার করে।