যখন পৃথিবী থেমে গিয়েছিল — আর বাংলাদেশ যা শিখেছে

২০২০ সালের ৮ মার্চ বাংলাদেশ প্রথম তিনটি COVID-19 কেস নিশ্চিত করে। সরকারের হাতে প্রস্তুতির সময় ছিল — WHO ছয় সপ্তাহ আগেই ৩০ জানুয়ারি বৈশ্বিক জনস্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছিল। কিন্তু ভাইরাস আসার পর ১৭ কোটি মানুষের এই ঘনবসতিপূর্ণ দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা এমন কিছুর মুখে পড়ল যা সে আগে কখনো দেখেনি — দ্রুতগতির একটি শ্বাসযন্ত্রের মহামারি, আর একটি স্বাস্থ্য অবকাঠামো যা রুটিন রোগ ব্যবস্থাপনার জন্য তৈরি, সংকটের চাপ সামলানোর জন্য নয়।

পরের দুই বছর যা ঘটল তা প্রচলিত অর্থে সাফল্যের গল্প নয়। বাংলাদেশ সংগ্রাম করেছে — পরীক্ষার সক্ষমতা নিয়ে, হাসপাতালের শয্যা নিয়ে, অক্সিজেন সরবরাহ নিয়ে, ভ্যাকসিন সংগ্রহ নিয়ে, আর দৈনিক মজুরিতে জীবন চলা লক্ষ লক্ষ মানুষের জন্য লকডাউনের অসম্ভব সংকটের মাঝে। কিন্তু দেশটি মানিয়েও নিয়েছে, উপায় খুঁজেছে, আর শেষ পর্যন্ত এমন একটি মহামারি থেকে বেঁচে উঠেছে যা অনেক ধনী দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে ভেঙে দিয়েছিল। এই অভিজ্ঞতার শিক্ষাগুলো শুধু বাংলাদেশের জন্য নয় — এগুলো COVID যুগের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জনস্বাস্থ্য কেস স্টাডির মধ্যে একটি।

বাংলাদেশ যে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছিল

বাংলাদেশের COVID-19 মহামারি স্বতন্ত্র ঢেউয়ে এসেছিল। প্রথম ঢেউ ২০২০ সালের জুলাইয়ে চূড়ায় পৌঁছায়, সংক্রমণ হার প্রায় ২-এ শুরু হয়ে ধীরে ধীরে ২০২০-এর শেষ নাগাদ কমে আসে। ডিসেম্বর ২০২০ থেকে ফেব্রুয়ারি ২০২১ ছিল প্রাদুর্ভাব শুরুর পর সবচেয়ে কম সংক্রমণের সময় — পজিটিভিটি হার প্রথমবারের মতো ৫ শতাংশের নিচে নামে।

তারপর এলো দ্বিতীয় ঢেউ, মূলত ডেল্টা ভেরিয়েন্টের কারণে। মার্চ ২০২১-এ সংক্রমণ দ্রুত বাড়ল, এপ্রিলের শুরুতে পজিটিভিটি হার ২৩ শতাংশ ছাড়িয়ে গেল। ৪ এপ্রিল একদিনে ৭ হাজার ৮৭টি নতুন কেস ধরা পড়ল — রেকর্ড সংখ্যা। জুন-জুলাই ২০২১-এ কিছু সীমান্ত জেলায় পজিটিভিটি হার নিয়মিত ৫০ থেকে ৬০ শতাংশে পৌঁছাচ্ছিল। হাসপাতালগুলো ধারণক্ষমতার বাইরে চলে গেল। ২০২৩ সালের মার্চ পর্যন্ত বাংলাদেশে ২০ লাখের বেশি নিশ্চিত কেস এবং ২৯ হাজার ৪৪৬ জনের মৃত্যু রেকর্ড হয়েছে — যদিও গবেষকরা বলছেন প্রকৃত অতিরিক্ত মৃত্যু আরো বেশি ছিল।

ভ্যাকসিন সংকট — সাপ্লাই চেইন নির্ভরতার শিক্ষা

বাংলাদেশের টিকাদান কর্মসূচি ২০২১ সালের ২৭ জানুয়ারি শুরু হয় — আঞ্চলিক মানদণ্ডে বেশ আগেভাগে। সেরাম ইনস্টিটিউটের তৈরি অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকা ভ্যাকসিন দিয়ে গণটিকা শুরু হয় ৭ ফেব্রুয়ারি। অ্যাপভিত্তিক নিবন্ধন ব্যবস্থা তৈরি হলো, অগ্রাধিকার তালিকা করা হলো সম্মুখসারির কর্মী ও বয়স্কদের জন্য, ঢাকার তৃতীয় স্তরের হাসপাতাল থেকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পর্যন্ত বিতরণ নেটওয়ার্ক তৈরি হলো।

তারপর ভারত সরবরাহ বন্ধ করে দিল। এপ্রিল ২০২১-এ ভারতে সংক্রমণ বিস্ফোরণ ঘটলে দেশটি নিজের জনগণকে রক্ষা করতে ভ্যাকসিন রপ্তানি বন্ধ করে দেয়। বাংলাদেশ ২৬ এপ্রিল থেকে অ্যাস্ট্রাজেনেকার প্রথম ডোজ দেওয়া স্থগিত করল — লাখো মানুষ প্রথম ডোজ পাওয়ার পর দ্বিতীয় ডোজের জন্য অপেক্ষায় আটকে গেল। এই বিপর্যয় একটি মৌলিক দুর্বলতা উন্মোচন করল: যখন একটি দেশের পুরো টিকাদান কৌশল একটি প্রতিবেশী দেশের একটি সরবরাহকারীর উপর নির্ভরশীল, সেই দেশের সংকট সরাসরি আপনার ঘরে চলে আসে।

বাংলাদেশ শেষ পর্যন্ত উৎস বৈচিত্র্য করল — চীনের সিনোফার্ম, রাশিয়ার স্পুটনিক ভি এবং পরে COVAX-এর মাধ্যমে ডোজ সংগ্রহ করল। এই অভিজ্ঞতা দেশীয় ভ্যাকসিন উৎপাদন সক্ষমতা নিয়ে আলোচনার দরজা খুলে দিয়েছে যা আজও অব্যাহত আছে।

যা ভেঙে পড়েছিল — আর যা টিকে ছিল

বাংলাদেশের COVID সাড়াদানে প্রশাসনিক ব্যর্থতাগুলো একাডেমিক সাহিত্যে অস্বাভাবিক স্পষ্টতায় নথিভুক্ত হয়েছে। একটি পর্যালোচনা সরাসরি বলেছে: WHO-র ঘোষণা ও প্রথম কেসের মাঝে ছয় সপ্তাহের সতর্কতা থাকা সত্ত্বেও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বা সরকার সমন্বিত ও ব্যাপক সাড়াদানের জন্য প্রয়োজনীয় নেতৃত্ব দিতে পারেনি। প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সমন্বয় ছিল বিচ্ছিন্ন। প্রথম বছরের বেশিরভাগ সময় পরীক্ষার সক্ষমতা চাহিদার তুলনায় অনেক পিছিয়ে ছিল।

একই সাথে কিছু জিনিস টিকে ছিল যা না টেকারও কথা ছিল। দশকের পর দশক ধরে গড়ে ওঠা কমিউনিটি ক্লিনিক ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নেটওয়ার্ক — একটি বিস্তৃত বিতরণ কাঠামো প্রদান করেছে যা মহামারির তীব্র সময়েও গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর কাছে টিকা ও মৌলিক স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিয়েছে। NGO-গুলো এমন সব ফাঁক পূরণ করেছে যা আনুষ্ঠানিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থা পারেনি। SAJIDA Foundation-এর মতো সংগঠনগুলো সমান্তরাল সাড়া দিয়েছে — বাড়িওয়ালারা স্বাস্থ্যকর্মীদের বের করে দেওয়ার পর তাদের আবাসনের ব্যবস্থা করেছে, কমিউনিটি স্বাস্থ্য কার্যক্রম চালু রেখেছে।

এখানে শিক্ষাটা হলো: বাংলাদেশের দীর্ঘ বিনিয়োগ একটি বিকেন্দ্রীভূত সিভিল সোসাইটি স্বাস্থ্য অবকাঠামোতে — যা BRAC-সহ দশকের পর দশক ধরে অনেক সংগঠনের কাজে গড়ে উঠেছে — সিস্টেমে এমন একটি অতিরিক্ত স্তর তৈরি করেছিল যা কেন্দ্রীয় সাড়াদান হোঁচট খাওয়ার সময়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছিল।

লকডাউনের দ্বিধা — যে শিক্ষার কোনো সহজ উত্তর নেই

বাংলাদেশের COVID অভিজ্ঞতা থেকে উঠে আসা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অনুসন্ধানগুলোর একটি হলো নিম্ন আয়ের, ঘনবসতিপূর্ণ দেশে লকডাউন নীতির বিশ্লেষণ — যেখানে বিশাল কর্মশক্তি দৈনিক মজুরিতে বাঁচে এবং যাদের কোনো সঞ্চয়ের বাফার নেই। গবেষকরা সরাসরি সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন: বাংলাদেশের মতো অর্থনৈতিক অবস্থানের দেশে দীর্ঘ লকডাউন উপযুক্ত নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা নয় — মহামারিবিদ্যা সমর্থন করলেও নয় — কারণ দরিদ্রতম জনগোষ্ঠীর উপর অর্থনৈতিক ক্ষতি এতটাই গুরুতর হতে পারে যে নিজেই একটি স্বাস্থ্য সংকট তৈরি করে।

এই টানাপোড়েন মহামারি জুড়ে বাস্তবে দেখা গেছে। ১৫ জুলাই ২০২১-এ — ঈদুল আযহার অর্থনৈতিক কার্যক্রমের কথা মাথায় রেখে বিধিনিষেধ শিথিলের দিন — স্বাস্থ্যমন্ত্রী সবাইকে নির্দেশিকা মানার অনুরোধ করলেন, একই সাথে স্বীকার করলেন সরকার আর্থসামাজিক কারণে বিধিনিষেধ শিথিল করেছে। হাজারো মানুষ শহর থেকে গ্রামে গেল। ট্রেন ও বাস নিরাপদ ধারণক্ষমতার বাইরে চলল। সরকার জানত এটা সম্ভবত সংক্রমণ ত্বরান্বিত করবে। তবুও এই পথ বেছে নিল কারণ বিকল্পটা — আরেকটা দীর্ঘ লকডাউন — এমন জনগোষ্ঠীর উপর অসহনীয় অর্থনৈতিক ক্ষতি চাপাত যাদের সেটা বহন করার সামর্থ্য নেই।

এখানে পরিষ্কার কোনো শিক্ষা নেই। বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা যা দেখায় তা হলো: নিম্ন আয়ের দেশে মহামারি নীতি এমন কাঠামোয় তৈরি হতে হবে যা অর্থনৈতিক বাস্তবতাকে কেন্দ্রে রাখে — শুধু সেই প্রেক্ষাপটে তৈরি মহামারিবিদ্যার মডেল নয় যেখানে মানুষের আয় সহায়তা, সঞ্চয় ও কল্যাণ রাষ্ট্র আছে।

যা শক্তিশালী হয়েছে — আর যেখানে এখনো কাজ বাকি

মহামারি-পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশ COVID অভিজ্ঞতায় চিহ্নিত বেশ কিছু সংকটের জায়গায় বিনিয়োগ করেছে। অক্সিজেন সরবরাহ অবকাঠামো — ডেল্টা ঢেউয়ের সময় যা বিপজ্জনকভাবে অপর্যাপ্ত ছিল — সম্প্রসারিত হয়েছে। জেলা হাসপাতালে ICU শয্যার সংখ্যা বেড়েছে। টিকাদানের জন্য তৈরি ডিজিটাল নিবন্ধন অবকাঠামো বৃহত্তর স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় কাজে লাগানো হচ্ছে।

কিন্তু যে কাঠামোগত চ্যালেঞ্জগুলো বাংলাদেশের COVID সাড়াদানকে কঠিন করেছিল সেগুলো সমাধান হয়নি। GDP-র অনুপাতে স্বাস্থ্য ব্যয় দক্ষিণ এশিয়ায় সবচেয়ে কম দেশগুলোর মধ্যে একটি। জনসংখ্যা অনুযায়ী চিকিৎসক সংখ্যা মহামারির মাত্রার চাপ সামলানোর জন্য যথেষ্ট নয়। দেশীয় ভ্যাকসিন উৎপাদন সক্ষমতা — যা ভ্যাকসিন সংকট উন্মোচন করেছিল — এখনো বাংলাদেশের আকার ও উচ্চাকাঙ্ক্ষার তুলনায় অনুন্নত।

বাংলাদেশের COVID অভিজ্ঞতার বৃহত্তর শিক্ষা হলো: স্বাস্থ্য ব্যবস্থার স্থিতিস্থাপকতা দশকের পর দশকে তৈরি হয় — মাসের মধ্যে নয়। বাংলাদেশ কমিউনিটি স্বাস্থ্য অবকাঠামো, NGO-প্রদত্ত সেবা ও বিকেন্দ্রীভূত গ্রামীণ স্বাস্থ্য নেটওয়ার্কে ৫০ বছরে যে বিনিয়োগ করেছে সেটা প্রয়োজনের সময় প্রকৃত স্থিতিস্থাপকতা দেখিয়েছে। যে বিনিয়োগগুলো করা হয়নি — ICU সক্ষমতায়, দেশীয় ভ্যাকসিন উৎপাদনে, স্বাস্থ্য অর্থায়নে — সেগুলো সবচেয়ে খারাপ সময়ে দুর্বলতা হিসেবে সামনে এসেছে।

পরবর্তী মহামারির জন্য প্রস্তুতি নেওয়া দেশের জন্য — আর মহামারিবিদরা একমত যে আরেকটি আসবে — বাংলাদেশকে যে প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে তা হলো: সংকট আসার আগে কোন বিনিয়োগগুলো এখনই করা হবে।

win-tk.org হলো wintk-এর একটি প্রকাশনা — তথ্যনির্ভর বিশ্লেষণী সাংবাদিকতায় বাংলাদেশের স্বাস্থ্য, অর্থনীতি ও উন্নয়ন কভার করে।