বাংলাদেশ পাকিস্তানকে ২-১-এ হারাল: তিন ম্যাচের সিরিজে যা ছিল সব
তিনটি ম্যাচ। তিনটি আলাদা গল্প। আর শেষে শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ট্রফি হাতে বাংলাদেশ — পাকিস্তানের বিপক্ষে দ্বিতীয় দ্বিপক্ষীয় ওডিআই সিরিজ জয়, প্রথমটির এগারো বছর পর। পাকিস্তানের বাংলাদেশ সফর ২০২৬ দিয়েছে একটি অভিষেক সেঞ্চুরি, একটি প্রথম পাঁচ উইকেট এবং এমন একটি শেষ ওভার যা দেখেছেন তাঁরা সহজে ভুলবেন না।
এটাই সেই গল্প। এটি একটি WinTK Official প্রকাশনা।
প্রথম ওডিআই — নাহিদ রানার ঝড়ে পাকিস্তান ১১৪-এ গুটিয়ে গেল
মিরপুর, ১১ মার্চ ২০২৬। বাংলাদেশ টস জিতে বোলিং নিল — এবং কুড়ি ওভারের মধ্যে সেটা অসাধারণ সিদ্ধান্ত প্রমাণিত হলো।
নাহিদ রানা সাত ওভারে পাকিস্তানকে ধ্বংস করলেন। ২৪ রানে পাঁচ উইকেট — ওডিআইতে তাঁর প্রথম পাঁচ উইকেট। প্রথম পাঁচ ওভারের প্রতিটিতেই উইকেট। মোহাম্মদ রিজওয়ান মাত্র ৪ রানে ফিরলেন। সালমান আঘাও বিশেষ কিছু করতে পারলেন না। ৩০.৪ ওভারে পাকিস্তান সব আউট ১১৪ — বাংলাদেশের বিপক্ষে তাদের সর্বনিম্ন ওডিআই স্কোর। ফাহিম আশরাফের ৩৭ ছাড়া কোনো ইনিংসই উল্লেখযোগ্য ছিল না। অধিনায়ক মেহদী হাসান মিরাজ যোগ করলেন ৩/২৯।
১১৫ রানের লক্ষ্যে বাংলাদেশ পৌঁছাল মাত্র ১৫.১ ওভারে। তানজিদ হাসান তামিম ৪২ বলে ৬৭ — সাত চার, পাঁচ ছক্কা। ৮ উইকেটে জয়, ২০৯ বল বাকি। পাকিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় জয়। ম্যাচের আলোচনায় যোগ দিন WinTK Community-তে।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬: সম্পূর্ণ সময়সূচি, গ্রুপ ও কোথায় দেখবেন
দ্বিতীয় ওডিআই — পাকিস্তান ফিরে এল
১৩ মার্চ ২০২৬। পাকিস্তান পাল্টা আঘাত করল। ২৭৪ রান করে ডিএলএস পদ্ধতিতে বাংলাদেশকে ১২৮ রানে হারাল। মাজ সাদাকত সেঞ্চুরি করলেন। সিরিজ ১-১।
তৃতীয় ওডিআই — মিরপুরে এক অবিস্মরণীয় ক্লাসিক
১৫ মার্চ ২০২৬। পাকিস্তান অধিনায়ক শাহীন শাহ আফ্রিদি টস জিতে বাংলাদেশকে ব্যাটিংয়ে পাঠালেন। পঞ্চাশ ওভার শেষে এটি বছরের সেরা ওডিআই বলা হচ্ছিল।
তানজিদ হাসান তামিম ক্রিজে এসেই হারিস রাউফকে আক্রমণ করলেন। প্রথম দুটো শট ছিল ছক্কা। আব্রার আহমেদকেও ছাড়লেন না। মাজ সাদাকত ও অভিষিক্ত সাদ মাসুদকেও ছক্কা। ৩৩তম ওভারে ফ্লাইটেড বলে নেমে এসে লং অফের উপর দিয়ে তুলে দিলেন — ব্যাট উঁচিয়ে ধরলেন। ওডিআই ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি। ৯৮ বলে ১০৭। ছয় চার, সাত ছক্কা। মাটিতে চুম্বন করলেন। মিরপুরের গ্যালারি গর্জে উঠল।
সাইফ হাসানের সাথে ১০৫ রানের উদ্বোধনী জুটি, শান্তোর সাথে আরও ৫৩। ৩৭তম ওভারে আব্রারের বলে কাভারে ক্যাচ দিয়ে ফিরলেন। লিটন দাস ৪১ ও তৌহিদ হৃদয় অপরাজিত ৪৮। মোট ২৯০/৫।
পাকিস্তানের চেজ শুরুই হলো বিপর্যয়ে। তিন ওভারেই ১৭/৩, তারপর ৬৭/৪। সিরিজ শেষ বলে মনে হচ্ছিল।
তখন এলেন সালমান আঘা। ৬ উইকেটে ২২৪ রান দরকার ৩৬ ওভারে। সাদ মাসুদের সাথে ৭৯ রানের জুটি। মুস্তাফিজুর মাসুদকে বোল্ড করলেন। আঘা থামলেন না — ৪৫তম ওভারে সেঞ্চুরি। উদযাপনের সময় নেই।
আঘা ও আফ্রিদি শেষ দিকে ৫২ রান যোগ করলেন। শেষ ওভারে দরকার ১৪, উইকেটে আফ্রিদি, বোলার রিশাদ। দ্বিতীয় বলে রিশাদ ক্যাচ ফেলে দিলেন। দুই বলে দরকার ১২। একটি ওয়াইড। তারপর শেষ বলে রিশাদ আফ্রিদিকে স্টাম্পড করলেন। বাংলাদেশ জিতল ১১ রানে। আঘার ৯৮ বলে ১০৬ — হারের পরেও অসাধারণ।
তাসকিন ৪/৪৯, মুস্তাফিজুর ৩/৫৪, নাহিদ রানা ২/৬২। তানজিদ ম্যাচসেরা। তানজিদ ও নাহিদ যৌথভাবে সিরিজসেরা।
বাংলাদেশের দক্ষিণ আফ্রিকা সফর ২০২৬: টেস্ট ও ওডিআই সিরিজ প্রিভিউ
এই সিরিজের মানে কী বাংলাদেশের জন্য
বাংলাদেশ রাজনৈতিক কারণে ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে পারেনি। দেশের মাটিতে দর্শকদের সামনে এই ২-১ সিরিজ জয় তাই আলাদা তাৎপর্য বহন করে। দ্বিতীয় ম্যাচে হেরে তৃতীয়তে ঘুরে দাঁড়ানো দলের মানসিক শক্তির প্রমাণ।
তানজিদ হাসান, মাত্র ২৪ বছরে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের প্রায় তিন বছর পর প্রথম ওডিআই সেঞ্চুরি। এই সিরিজে তিন ইনিংসে ১৭৫ রান, গড় ৮৭.৫০। ২০২৭ বিশ্বকাপের প্রস্তুতিতে তাঁর ওপরেই বাংলাদেশের বড় অংশ নির্ভর করবে।
নাহিদ রানা পাকিস্তানকে এখন বিশেষ লক্ষ্যবস্তু করে ফেলেছেন বলা চলে। মিরপুরের পিচে তাঁর পেস, বাউন্স ও কোণের সমন্বয়ের জবাব পাকিস্তানের ব্যাটারদের কাছে ছিল না।
অধিনায়ক মেহদী হাসান মিরাজ বললেন: "সত্যিই অসাধারণ ম্যাচ ছিল। ছেলেরা দারুণ খেলেছে। সিরিজজুড়ে তাসকিন ও নাহিদ দুর্দান্ত বোলিং করেছে।" বাংলাদেশ ক্রিকেটের আলোচনায় সক্রিয় থাকুন WinTK Community-তে এবং সর্বশেষ আপডেটের জন্য WinTK Official ফলো করুন। এটি একটি WinTK Official প্রকাশনা।