বাংলাদেশে এখন একটা আলাদা এআই দুনিয়া তৈরি হচ্ছে

পাঁচ বছর আগেও বাংলাদেশের প্রযুক্তি আলোচনা ঘুরত দুটো বিষয়ের চারপাশে — মোবাইল ফিনান্সিয়াল সার্ভিস আর সফটওয়্যার আউটসোর্সিং। বিকাশ পঞ্চাশ মিলিয়ন গ্রাহক পার করেছে। আইটি রপ্তানি বাড়ছে। বেসিস সম্মেলনে ভিড়। কিন্তু কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই, আলাদা একটা শিল্প হিসেবে, তখন বাংলাদেশের প্রযুক্তি আলোচনায় মূলত অনুপস্থিত। বুয়েট ও ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু গবেষক পেপার প্রকাশ করছেন। কয়েকজন উদ্যোক্তা বাংলা ভাষার ন্যাচারাল ল্যাঙ্গুয়েজ প্রসেসিং নিয়ে পরীক্ষা করছেন। এটুকুই।

২০২৬-এ ছবিটা বদলে গেছে। Tracxn-এর তথ্য অনুযায়ী শুধু ঢাকাতেই এখন সত্তরটিরও বেশি নিবন্ধিত এআই কোম্পানি আছে। সামগ্রিকভাবে বাংলাদেশের স্টার্টআপ ইকোসিস্টেম দুই হাজার পাঁচশোরও বেশি সক্রিয় কোম্পানি, এক বিলিয়ন ডলারের বেশি বিনিয়োগ — যার বাহান্ন শতাংশ বিদেশি — এবং প্রায় পনেরো লাখ মানুষের কর্মসংস্থান নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। এআই স্টার্টআপ এখন দেশের নতুন উদ্যোগের পনেরো শতাংশ। Google Cloud ও Amazon বাংলাদেশি এআই প্রতিষ্ঠাতাদের পেছনে বিনিয়োগ করেছে। প্রশ্ন এখন বাংলাদেশে এআই শিল্প আছে কিনা নয় — প্রশ্ন হলো কারা এটা বানাচ্ছে, আর আসলে কী বানাচ্ছে।

এই তালিকায় দশটি কোম্পানি — শুধু সবচেয়ে বেশি তহবিলপ্রাপ্ত নয়, বরং যারা সত্যিকারের প্রযুক্তিগত কাজ করছে, বাস্তব সমস্যা সমাধান করছে, এবং বাংলাদেশের নির্দিষ্ট পরিবেশের জন্য সমাধান তৈরি করছে।

ডিজিটাল কপিরাইট ও কন্টেন্ট ক্রিয়েটরের অধিকার: বাংলাদেশের স্ট্রিমারদের জন্য DMCA-র পাঠ

১. Socian — বাংলা স্পিচ এআইয়ের পথিকৃৎ

Socian প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল ২০১৬ সালে — বাংলাদেশের এআই দুনিয়ায় এটা বেশ পুরনো। এটি একটি ন্যাচারাল ল্যাঙ্গুয়েজ প্রসেসিং কোম্পানি, কিন্তু সাধারণ নয়। এর মূল লক্ষ্য হলো কম্পিউটারকে বাংলা বোঝানো — অনুবাদের বাংলা নয়, বাস্তব বাংলা। ঢাকার একজন গ্রাহক যেভাবে কথা বলেন, সিলেটের একজন ব্যবহারকারী যেভাবে ফোনে কথা বলেন — সেই বাস্তব কথোপকথনের ভাষা।

কোম্পানিটি স্পিচ-টু-টেক্সট, টেক্সট-টু-স্পিচ, সেন্টিমেন্ট অ্যানালাইসিস এবং কনভার্সেশনাল এআই প্ল্যাটফর্ম তৈরি করে। Grameenphone Accelerator ও Maslin Capital থেকে ৮৭ হাজার ডলার তহবিল পেয়েছে। সংখ্যাটা বৈশ্বিক মানে ছোট, কিন্তু পণ্য সত্যিকারের। টেলিযোগাযোগ ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো Socian ব্যবহার করছে বাংলাভাষী গ্রাহক সেবা প্রক্রিয়ার জন্য। ১৭ কোটি মানুষের দেশে এই বাজার কোনো তাত্ত্বিক সম্ভাবনা নয় — এটা বিশাল বাস্তব চাহিদা।

২. Intelligent Machines — বাস্তব অর্থনীতির জন্য কম্পিউটার ভিশন

Intelligent Machines দেখিয়ে দিয়েছে যে এআই শুধু গবেষণাগারের প্রদর্শনী নয়, এটা মাঠপর্যায়ে ব্যবস্থাপনার হাতিয়ার হতে পারে। কোম্পানিটি Startup Bangladesh Limited-এর বিনিয়োগ পেয়েছে ২০২১ সালে, এবং এর ক্লায়েন্টের তালিকা যেকোনো পিচ ডেকের চেয়ে ভালো গল্প বলে।

বিকাশ তাদের কম্পিউটার ভিশন ব্যবহার করে ৪ লাখ ১২ হাজার সক্রিয় খুচরা আউটলেটে ৭৪ শতাংশ উৎপাদনশীলতা বাড়িয়েছে। Telenor Myanmar এক কোটি নব্বই লাখ গ্রাহকের নিবন্ধনে তাদের ফ্রড ডিটেকশন মডেল ব্যবহার করে খরচ কমিয়েছে ৯২.৫ শতাংশ। একটি শীর্ষ এফএমসিজি কোম্পানি তাদের অডিও রিকগনিশন প্ল্যাটফর্মে ৫ হাজার ৪৪১ জন বিক্রয়কর্মীর পারফরম্যান্স একই দিনে পরিমাপ করছে। এগুলো পরীক্ষামূলক প্রকল্প নয় — এগুলো চলমান উৎপাদন ব্যবস্থা।

৩. Shothik AI — Google ও Amazon যাকে বিশ্বাস করেছে

Shothik AI প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল ২০২৩ সালে, প্রতিষ্ঠাতা আহসান হাবিব। দুই বছরের মাথায় এই কোম্পানির বিনিয়োগকারীর তালিকায় Google Cloud ও Amazon — দুটি নাম যা অধিকাংশ বাংলাদেশি স্টার্টআপ স্বপ্নেও ভাবতে পারে না। ২০২৩ সালে একশো হাজার ডলার এবং ২০২৪ সালে আরও সাড়ে তিন লাখ ডলার তহবিল পেয়েছে।

প্ল্যাটফর্মটি বাংলা লেখার সহায়তা করে — ব্যাকরণ সংশোধন, প্যারাফ্রেজিং, কনটেন্ট তৈরি, সারসংক্ষেপ, অনুবাদ। যুক্তিটা সহজ: কোটি কোটি বাংলাদেশি প্রতিদিন বাংলায় লেখেন — কাজে, পড়াশোনায়, সামাজিক মাধ্যমে — কিন্তু বিশ্বের বড় এআই রাইটিং টুলগুলো ইংরেজি কেন্দ্রিক। Shothik AI সেই ফাঁকটা পূরণ করছে। Smart Bangladesh Accelerator ও Bangabandhu Innovation Grant-ও এতে বিনিয়োগ করেছে।

PlayStation বনাম Xbox: বাংলাদেশ ও দক্ষিণ এশিয়ায় গেমিং সংস্কৃতির উত্থান

৪. Intelsense — এন্টারপ্রাইজ বাংলাদেশের এআই সমাধান

Tracxn-এর AI Services ক্যাটাগরিতে Intelsense বাংলাদেশের শীর্ষে, যা বলে দেয় এটি শুধু চমৎকার ডেমো দিয়ে নয়, সত্যিকারের এন্টারপ্রাইজ সম্পর্ক তৈরি করে এই অবস্থানে এসেছে। কোম্পানিটি ন্যাচারাল ল্যাঙ্গুয়েজ প্রসেসিং ও কম্পিউটার ভিশন সমাধান দেয়, বিশেষভাবে ওমনিচ্যানেল কনভার্সেশনাল এক্সপেরিয়েন্স তৈরিতে।

যেসব প্রতিষ্ঠান নিজে থেকে এআই বিশেষজ্ঞ দল গড়তে চায় না, তাদের জন্য Intelsense একটি সহজ প্রস্তাব নিয়ে আসে: আপনার বিদ্যমান ব্যবস্থায় এআই যোগ করে দেব। বাংলাদেশে এআই প্রকৌশলীর পুল এখনও সীমিত, তাই এই মডেল ব্যবসায়িকভাবে বুদ্ধিমানের। হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের নেটওয়ার্কের বিনিয়োগ এর প্রতিষ্ঠাতা দলের আন্তর্জাতিক যোগাযোগ প্রতিফলিত করে।

৫. BJIT Group — বৈশ্বিক এআইয়ের সঙ্গে বাংলাদেশের সেতু

BJIT Group স্টার্টআপ নয়। এটি জাপান-বাংলাদেশ যৌথ উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত এবং ৬৫০-এরও বেশি প্রকৌশলী নিয়ে কাজ করছে। জাপান, যুক্তরাষ্ট্র, সিঙ্গাপুর, সুইডেন ও ফিনল্যান্ডে অফিস আছে। রিটেইল, টেলিকম, ফিনান্স, স্বাস্থ্যসেবা ও উৎপাদন খাতের আন্তর্জাতিক ক্লায়েন্টদের জন্য কাজ করে।

BJIT-এর এআই ও ডিপ লার্নিং কাজ গবেষণাগারে নয়, উৎপাদন ব্যবস্থায় মোতায়েন হচ্ছে বাস্তব আন্তর্জাতিক ক্লায়েন্টের জন্য। প্রস্তাবটা পরিষ্কার: জাপানি মানের কাজ, দক্ষিণ এশীয় খরচে। যেসব আন্তর্জাতিক কোম্পানি সিলিকন ভ্যালির দাম না দিয়ে এআই সক্ষমতা যোগ করতে চায়, BJIT তাদের কাছে ক্রমেই আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে।

৬. Speaklar — বাংলাদেশের প্রথম এআই-চালিত বাংলা কল সেন্টার

বাংলাদেশে গ্রাহক সেবা মানে ফোনে কথা বলা — বাংলায়, নির্দিষ্ট সাংস্কৃতিক প্রেক্ষাপটে। কল সেন্টার শিল্পটা বিশাল — টেলিকম, আর্থিক সেবা, ই-কমার্স — এবং এটা এতদিন সম্পূর্ণ মানুষ-চালিত ছিল। Speaklar সেটা বদলাতে চাইছে। এটি বাংলাদেশের প্রথম এআই-চালিত বাংলা কল সেন্টার টেলিফোনি সেবা।

চ্যালেঞ্জটা শুনতে সহজ মনে হলেও আসলে কঠিন। চট্টগ্রামের একজন গ্রাহক ব্যাংকে ফোন করে যেভাবে কথা বলেন, সেটা পত্রিকার বাংলা নয়। আঞ্চলিক উচ্চারণ, অনানুষ্ঠানিক বাক্য, আবেগের স্বর — এই সবকিছু গ্রাহক সেবার প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ। Speaklar শুধু প্রযুক্তিগত সমস্যা নয়, ভাষাগত ও সাংস্কৃতিক সমস্যাও সমাধান করছে — এটাই একে সাধারণ চ্যাটবটের চেয়ে আলাদা করে।

৭. Markopolo AI — আঞ্চলিক বাজারে মার্কেটিং ইন্টেলিজেন্স

Markopolo AI এই তালিকার অন্যদের চেয়ে ভিন্ন মডেলে কাজ করে। শুধু বাংলাদেশের সমস্যা সমাধানে নয়, এটি এমন একটি এআই মার্কেটিং ইন্টেলিজেন্স প্ল্যাটফর্ম তৈরি করছে যার লক্ষ্য আঞ্চলিক বাজার পর্যন্ত পৌঁছানো।

প্ল্যাটফর্মটি ব্যবহার করে কোম্পানিগুলো বিপণন বাজেটের ব্যবহার অপ্টিমাইজ করতে পারে, ব্যবহারকারীর আচরণ বুঝতে পারে, ডিজিটাল চ্যানেলে বিনিয়োগ কোথায় করবে সেই সিদ্ধান্ত দ্রুত নিতে পারে। যুক্তিটা সর্বজনীন — পৃথিবীর প্রতিটি ব্যবসা মার্কেটিং খরচ বাঁচাতে চায়। Markopolo-এর শক্তি হলো স্থানীয় মূল্যে, স্থানীয় সহায়তায়, দক্ষিণ এশীয় ডিজিটাল আচরণ বোঝে এমন একটি দল।

৮. Abelling — সব এআইয়ের ভিত্তি যে কাজটা

এআই মডেল নিজে থেকে শেখে না। প্রতিটি কার্যকর মেশিন লার্নিং সিস্টেমের পেছনে আছে বিপুল পরিমাণ লেবেলযুক্ত ডেটা — ছবি চিহ্নিত করা, টেক্সট অ্যানোটেট করা, অডিও ট্রান্সক্রাইব করা। এই ডেটা লেবেলিং কাজটা চটকদার নয়, কিন্তু এটাই এআই শিল্পের ভিত্তি। বাংলাদেশ এই কাজের জন্য অসাধারণভাবে উপযুক্ত: বড়, শিক্ষিত, ইংরেজি-জানা জনগোষ্ঠী, প্রতিযোগিতামূলক মজুরিতে।

ঢাকাভিত্তিক Abelling ডেটা লেবেলিংকে মূল ব্যবসা বানিয়েছে। এটি উচ্চমানের অ্যানোটেশন সেবা দেয় এমন দামে যা ছোট স্টার্টআপের নাগালে। বৈশ্বিক এআই সাপ্লাই চেইনে ডেটা লেবেলিং মৃত প্রান্ত নয় — এটা সেই ভিত্তি যার উপর অন্য সব এআই কোম্পানি দাঁড়িয়ে। বাংলাদেশ থেকে আন্তর্জাতিক অ্যানোটেশন চাহিদা বাড়লে Abelling-এর এই অবস্থান আরও মূল্যবান হবে।

৯. Ontik Technology — এআই ফ্যাশনের আগে থেকেই কাজ করছে

Ontik Technology প্রতিষ্ঠিত ২০১৬ সালে — বর্তমান এআই উত্তেজনার অনেক আগে। বিশটিরও বেশি দেশের ক্লায়েন্টের জন্য ২২০টিরও বেশি প্রকল্প সম্পন্ন করেছে। সংস্থাটি একটি প্রযুক্তি পরামর্শদাতা হিসেবে নিজেকে গড়েছে যেখানে এআই সক্ষমতা পুরো সেবার মধ্যে একটা অংশ।

২০২৬-এর প্রেক্ষাপটে Ontik-এর গুরুত্ব তার বয়স ও আন্তর্জাতিক ট্র্যাক রেকর্ডে। নতুন গঠিত কোম্পানিগুলো যখন এখনও টিকে থাকার চ্যালেঞ্জ পার করছে, সেখানে Ontik-এর দীর্ঘমেয়াদী ক্লায়েন্ট সম্পর্ক ও সফল ডেলিভারির ইতিহাস একটা আস্থার প্রমাণ যা শুধু তহবিল দিয়ে কেনা যায় না।

১০. Vivasoft Limited — স্কেল, প্রকৌশলী ও বৈশ্বিক এআই বাজার

Vivasoft Limited-এ তিনশোর বেশি প্রকৌশলী আছেন, বৈশ্বিকভাবে আশিটিরও বেশি প্রকল্প ডেলিভার করেছে — যা এই তালিকার অনেক কোম্পানির চেয়ে আলাদা মাত্রার। কোম্পানিটির আইটি স্টাফ অগমেন্টেশন, সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট ও মোবাইল অ্যাপের মডেলে এআই ক্রমশ কেন্দ্রীয় হয়ে উঠছে।

এই পরিসর গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশের এআই শিল্পের এমন কোম্পানি দরকার যারা বড় আন্তর্জাতিক চুক্তি সামলাতে পারে। Vivasoft-এর ক্লায়েন্টের মধ্যে নেদারল্যান্ডস, সুইডেন, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, অস্ট্রেলিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানি আছে — বাংলাদেশের সেরা প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো কতটা আন্তর্জাতিক হয়ে উঠেছে তার প্রমাণ।

এই ইকোসিস্টেম আসলে কোথায় যাচ্ছে

দশটি কোম্পানির তালিকা অর্ধেক গল্প বলে। বাকিটা প্রেক্ষাপটে। বৈশ্বিক মানে বাংলাদেশের এআই ইকোসিস্টেম এখনও ছোট। Tracxn ডেটায় দেশের ডিপ টেক এআই সেক্টরে মোট ভেঞ্চার ক্যাপিটাল ৭ লাখ ডলারেরও কম। মোবাইল ইন্টারনেট গড়ে ৯.২ মেগাবিট — বৈশ্বিক গড়ের তুলনায় অনেক কম। ডিজিটাল সাক্ষরতা মাত্র আট শতাংশ। নিয়ন্ত্রক পরিবেশ এখনও এআই কোম্পানির প্রয়োজনীয়তার সাথে তাল মিলিয়ে চলছে।

কিন্তু বর্তমান অবস্থার চেয়ে গতিপথ বেশি গুরুত্বপূর্ণ। Oracle Sovereign Cloud মোতায়েন হয়েছে। প্রযুক্তি খাতে সাড়ে ছয় লাখ ফ্রিল্যান্সার কাজ করছেন। এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, এক প্রজন্মের উদ্যোক্তা বিকাশকে বড় হতে দেখেছেন — একটি মোবাইল ফিনান্সিয়াল সিস্টেম যা প্রচলিত ব্যাংকিং যাদের কাছে পৌঁছাতে পারেনি তাদের কাছে পৌঁছে গেছে, সত্তর মিলিয়ন মানুষের কাছে। সেই প্রজন্মের প্রতিষ্ঠাতারা একটা পাঠ নিয়েছে: বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সুযোগ সেই সমস্যাগুলোতে যা সিলিকন ভ্যালি সমস্যা বলেই মনে করে না।

এই তালিকার দশটি কোম্পানি সেই ভিত্তি থেকেই এআই বানাচ্ছে। বেশিরভাগ ইউনিকর্ন হবে না। কিছু ব্যর্থ হবে। কিন্তু বাংলা এনএলপি, দক্ষিণ এশীয় সাপ্লাই চেইনে কম্পিউটার ভিশন, বৈশ্বিক এআই শিল্পের জন্য ডেটা লেবেলিং, বাস্তব বাংলা উপভাষায় প্রশিক্ষিত কল সেন্টার এআই — এই কাজগুলোই একটি শিশু এআই ইকোসিস্টেমের প্রথম পদক্ষেপ। পাঁচ বছর পর তালিকাটা অন্যরকম হবে। কিছু কোম্পানি অনেক বড় হবে, কিছু হয়তো থাকবেই না। তবে বাংলাদেশের এআই দুনিয়া ২০২৬-এ নিঃসন্দেহে তৈরি হচ্ছে।

win-tk.org একটি WinTK প্রকাশনা।